পর্যটকের চাপ কমাতে জনপ্রতি ৫ ইউরোর প্রবেশ ফি নেয় ইতালির অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ও ঐতিহাসিক শহর ভেনিস। একই পথে হাঁটতে যাচ্ছে বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোও। শীর্ষস্থানীয় পর্যটন সংস্থাগুলোর প্রধানরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। তাই পর্যটকের ঢল ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
পর্যটন শিল্প দক্ষিণ ইউরোপের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে গত গ্রীষ্মে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছিল। তাই ভেনিস ব্যস্ততম দিনগুলোয় পর্যটকদের জন্য ৫ ইউরো প্রবেশ ফি চালু করে। চলতি বছর এ কর্মসূচির পরিধি আরো বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ডেস্টিনেশনস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী ডন ওয়েলশ বলেন, ‘পর্যটকদের চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এটি শেষ উপায় হতে পারে। স্থানীয়রা যাতে পর্যটকদের বোঝা এবং প্রতিবন্ধকতা"হিসেবে না দেখে। পর্যটনকে শুধু পর্যটক সংখ্যা বাড়ানোর দিকে না রেখে বরং স্থানীয়দের জন্য ভ্রমণকে সুবিধাজনক করে তোলার দিকে নজর দেয়া উচিত।’
অন্যদিকে ভেনিসের ডেপুটি মেয়র সিমোন ভেনটুরিনি বলেন, ‘ভেনিসের ফি ব্যবস্থা অন্যান্য জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিয়োটো থেকে চার্লসটন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন শহর থেকে আমরা অনেক প্রশ্ন পাচ্ছি। তারা জানতে আগ্রহী, আমরা কীভাবে এটি পরিচালনা করছি।’
২০২৪ সালে ইউরোপে রেকর্ডসংখ্যক ৭৪ কোটি ৭০ লাখ পর্যটক ঘুরতে আসে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু স্থানীয় অসন্তোষ নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্পেনের জিডিপিতে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ অবদান রাখে পর্যটন শিল্প। তবে বার্সেলোনার বাসিন্দারা গত গ্রীষ্মে পর্যটন এলাকায় ডিনার করা লোকদের ওপর পানি মেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
ওয়েলশ বলেন, ‘শহর সরকার ও চেম্বার অব কমার্সগুলো একটি সমন্বিত নীতি তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান ঠিক থাকে।
বাসস্থানের অভাব, উচ্চমূল্যের ভাড়া ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ জন্ম নেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্পমেয়াদে বাড়ি ভাড়া ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা এবং পর্যটকদের সংখ্যা সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বার্সেলোনা ২০২৮ সালের মধ্যে এয়ারবিএনবির মতো সব অ্যাপার্টমেন্ট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। পম্পেই প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি পর্যটকদের প্রবেশ সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রিসের জনপ্রিয় দ্বীপ সান্তোরিনি ও মাইকোনোসে ক্রুজ জাহাজের যাত্রীদের জন্য ২০ ইউরো পর্যন্ত ফি চালু করা হচ্ছে।